NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

সবখানে আস্থার সংকট!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রনজক রিজভী: রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যু দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এতে কিছু সংকট বড় হয়ে উঠেছে। তবে এর সাথে আস্থার সংকট বাড়া-কমার কোনো যোগ আছে কী না আমার জানা নেই। দেশে হঠাৎ করেই যেন আস্থার সংকট বাড়তে শুরু করেছে। কেউ কারো প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। সব যেন এক গোলমেলে অবস্থা। বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কথা যদি বলি- ঘোষণায় যা বলা হয়েছে। বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। শহরে এক দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। গ্রামাঞ্চলে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। লোডশেডিং, বিভ্রাট না কী অন্যকিছু, কেউ জানে না। মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বেফাঁস এক মন্তব্য করে বসলেন।নির্বাচনের সময় কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায় তাহলে প্রতিপক্ষকে রাইফেল নিয়ে দাঁড়াতে বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। যদিও পরে ক্ষমা চেয়ে সিইসি বলেছেন, ‘বন্দুক নিয়ে প্রতিরোধ ছিল কথার কথা’। প্রশ্ন হচ্ছে- প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কেন এমন মন্তব্য করতে হবে। আস্থার সংকট কোথায়?

রেলের দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। ছয় দফা দাবি নিয়ে একাই শুরু করেন প্রতিবাদ। এরপর তার যৌক্তিক দাবির প্রতি ক্রমেই সমর্থন বাড়তে থাকে।তবে তার বক্তব্য শোনার মতো কোনো কর্মকর্তাকেই পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক বাধা বিপত্তি এবং রেল ভবনে ঢুকতে না দেয়াসহ বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে। অবশেষে রনি কর্মকর্তাদের দেখা পেলেও গদবাধা বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। আবারও আন্দোলন শুরু হয়। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৫ জুলাই এই আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। দেশের কেউ কী জানেন না রেলের সমস্যা কোথায়। কেন সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। দিনের পর দিন দুর্ভোগ বাড়ছে। সব কিছুর সমাধান হয়। রেলের সমস্যাগুলো থেকেই যায়। ঊর্ধ্বতনরা শুধু বলেই যান- মহাপরিকল্পনার কথা। অথচ চাহিদার বিপরীতে বাড়ে না ট্রেনের সংখ্যা এবং সেবার মান। জনগণ আস্থা রাখতে পারছে না।

চালু হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ২১ জেলার মানুষের ভাগ্য খুলেছে। ফরিদপুর তথা পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের কাছে পদ্মা সেতু স্বপ্নের মতো। এই সেতু দিয়ে স্বল্প সময়ে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া করা যাচ্ছে। ফলে খুশির জোয়ার বইছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানুষসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের। বিশেষ করে এই সেতুকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের মূল কেন্দ্র। এই সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র আর বিতর্কের জল কম গড়ায়নি।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের টাকায় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সমর্থন দেননি অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে অনেকেই। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক আলোচনায় বলেন, ‘পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে।’

রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ যতোই হোক, অবেশেষে নির্মিত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যানবাহন চলাচল করছে। গত ২৬ জুন চালুর পর পদ্মা সেতুতে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছিল গত ১ জুলাই। সেদিন ৩ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয় সেতুটিতে। ওই দিন পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়া গাড়ির সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৩৯৮টি। এরপর ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু থেকে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। আর পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন ২৬ জুন থেকে যানচলাচল শুরু হয়ে গেল ৩০ দিনে ছয় লাখের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা।

তবে পদ্মা সেতুতে উঠে এখনও কেউ রিস্কে পড়েন নি। দিব্বি যোগাযোগের এই মাইলফলক উপভোগ করছেন সবাই। অথচও আস্থা রাখতে পারছেন না রাজনীতিবিদরা। প্রশ্ন উঠেছে আসলে সংকট কোথায়?

হঠাৎ করেই গরম হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। নির্বাচন সামনে বলেই হয়তো এই আভাস। অবশ্য রাজনীতির মাঠ গরম থাকলে জনগণও চাঙ্গা থাকে। বিরোধী দলগুলো ভুলেই গেছে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে প্রতিবাদ করতে করতে হয়। সরকারকে জবাবদিহির জায়গায় আনতে হয়। কিন্তু শুধু পত্রিকা এবং টেলিভিশনেই তুলে ধরা হচ্ছে নিত্যপণ্য আর বাজার পরিস্থিতি। গ্যাস-বিদ্যুৎ, চাল, সয়াবিন তেলের দাম দফায় দফায় বাড়লো বিরোধীদের কোনো কর্মসূচি নেই। তারা শুধু কথা বলেন ঘরের মধ্যে। এরইমধ্যে লিটার প্রতি ১৪ টাকা কমানো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। যা আছে তা সবই আগের বেশি দামের। সরকারের পক্ষ থেকে মাঠে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। তাতেও তেমন কোনও সুফলই পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের জন্যে রাজনীতি করেন, সব দলের বক্তব্য। কিন্তু জনগণ বাড়তি দাম গুনেই যাচ্ছে নিশ্চুপ রাজনৈতিক দলগুলো। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় আচরণ বদলে গেছে। জনগণের এই প্রশ্নের কে উত্তর দেবে। রাজনীতিবিদ বা দলগুলোর প্রতি কতোটা আস্থা রাখতে পারছে জনগণ।

নির্বাচনমুখী হতে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়াদৌড়ি থেমে নেই। তবে রাজপথে নয়, রাজনীতিতে আছে। যদিও বাংলাদেশের সব মানুষই এখন এমন রাজনীতিতে আছেন। তারা রাজনীতি, বিচার, শাসন সবই বোঝেন। এমন কী সবাই এমনভাবে সরকারের সমালোচনা করেন, যেন সবাই এক-একজন সরকার প্রধান হিসেবে যোগ্য। এমন জনগণের দেশে রাজনীতিবিদরা ভয়েই হয়তো ঘরে উঠে গেছেন। তবে পার্থক্যটি হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ নেই; রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের আছে। তারা নির্বাচনে যেতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা চান। হয়তো তারা ভুলে গেছেন, কিভাবে এই ব্যবস্থা এসেছিল। এবং কিভাবে বন্ধ হয়েছে। এর কোনো দিকেই তারা যাচ্ছেন না। অথচ ব্যবস্থাটি চান। আর সরকার আইনের মধ্যেই থাকতে চায়। রাজনীতিতে এই আস্থার সংকট কিভাবে দূর হবে। দৌড়াচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, বিরোধী জোটগুলোও বসে নেই।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

rizvynca@gmail.com

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More