NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

ইভিএম না রাখার প্রস্তাব জাতীয় পার্টির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিউজনাউ ডেস্ক: ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণের ঘোর বিরোধিতা করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তাদের দলসহ দেশের মানুষের ইভিএমে আস্থা নেই দাবি করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

রবিবার (৩১ জুলাই) জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সিইসিসহ অন্য কমিশনার ও ইসি সচিব অংশগ্রহণ করেন।

ইভিএমের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “ইভিএমে আমাদের আস্থা নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমারও এতে কোনো আস্থা নেই। মানুষ মনে করে ইভিএমে ভোট পাল্টে দেওয়া হলে কিছু করার নেই। কারণ ফলাফল রি-চেক করা যায় না।”

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন ব্যালট পেপারে গ্রহণের দাবি করে চুন্নু বলেন, “আমরা চাই ওই নির্বাচনটি ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হোক। নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক।”

নির্বাচন ইভিএমে হলে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই বলেও জানান দলটির মহাসচিব।

ইসিকে উদ্দেশ করে সংলাপে চুন্নু আরও বলেন, “আপনাদের দোষারোপ করে লাভ নেই। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা না পেলে নির্বাচনে আপনারা অসহায়। সমস্যা আমাদের সিস্টেমের। কিছু সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে যতই শক্ত আইন করা হোক, কোনো লাভ হবে না। নির্বাচনে ভালো হোক, সেটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউই চায় না।”

প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, “ইভিএম খুবই কঠিন পদ্ধতি। অনেক দেশ ইভিএম বাতিল করেছে।”

ইসিকে উদ্দেশ করে প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু প্রশ্ন রাখেন, “জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় ইভিএম নষ্ট হলে সেটা আপনারা ঠিক করবেন? না নির্বাচনের অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম করবেন?”

এছাড়াও নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। রোববার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দলটি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে।

জাপার প্রস্তাবগুলো হচ্ছে—

১. নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনে কর্মরত সব পর্যায়ের কর্মচারীরা নির্বাচন সংক্রান্ত কমিশনের কোনো নির্দেশ অমান্য করলে কমিশন সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ না করে নিজস্ব ক্ষমতাবলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে।

২. নির্বাচনী খরচ বাবদ একজন প্রার্থীর ২৫ লাখ টাকা পরিবর্তন করে ৫০ লাখ টাকা করতে হবে।

৩. ইউটিলিটিস বিল, ক্রেডিট কার্ডের বিলের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের যে বিধান বর্তমানে বহাল আছে তা বাতিল করতে হবে।

৪. সরকারি কর্মচারীরা অবসরের যাওয়ার পর সরকারের মালিকানাধীন, আংশিক মালিকানাধীন, স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা নির্বাচন করতে পারবে না।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, ফখরুল ইমাম, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ভূইয়া, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু।

নিউজনাউ/এবি/২০২২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More